আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): বাংলাদেশের খুলনা শহরে শহীদ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী হোসেইনি খামেনেয়ী (রহ.) এবং তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের স্মরণে এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়; অনুষ্ঠানে আলেমগণ, শিক্ষাঙ্গন, সংস্কৃতি ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
পবিত্র কুরআন থেকে আয়াত তিলাওয়াত, যুগের ইমামের (আ.ফা.) পুনরাবির্ভাবের জন্য বিশেষ দোয়া পাঠ এবং ইসলামি বিশ্বের সম্মান ও গৌরবের জন্য প্রার্থনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহজালাল সেই শহীদ নেতার চরিত্র ও জীবনপথের ওপর আলোকপাত করে প্রশ্ন রাখেন: "কী ছিল সেই শহীদ নেতার অপরাধ? নির্যাতিতের পক্ষে দাঁড়ানো এবং অবিচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া ছাড়া তিনি আর কী পাপ করেছিলেন? তাঁকে সরে দাঁড়াতে বলা হয়েছিল, অথচ তিনি ঐশ্বরিক আদর্শের জন্য জীবন উৎসর্গ করা এবং শহীদি মর্যাদা লাভকেই বেছে নিয়েছিলেন।"
শহীদ নেতার কর্মপন্থা ও আশুরা আন্দোলনের মধ্যে সাদৃশ্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন: "ঠিক যেমন ইমাম হোসাইন (আ.) সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধের নীতি সমুন্নত রাখতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তেমনি শহীদ নেতাও অবিচলভাবে সেই একই পথ অনুসরণ করেছেন এবং কখনোই কোনো চাপ বা ঔদ্ধত্যের কাছে নতি স্বীকার করেননি।"
ইরানের ওপর জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অধ্যাপক বলেন: "হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা এবং নিরস্ত্র মানুষ হত্যা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।"
অনুষ্ঠানের অন্য একটি পর্বে সমাজকর্মী জালাল-উদ-দীন শিয়া ধর্মীয় রীতিনীতির সাথে তাঁর পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৯৮০ সালে একটি শোকানুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করার মধ্য দিয়ে খুলনার হুসাইনিয়ার সাথে তাঁর যে সংযোগ গড়ে উঠেছিল, তা আজও অটুট রয়েছে। পাশাপাশি তিনি ফিলিস্তিনি শিশুদের নির্বিচারে হত্যার নিন্দা জানান এবং ফিলিস্তিনে জায়নবাদী সরকারের সংঘটিত অপরাধের তীব্র প্রতিবাদ করেন।
Your Comment